Mymensingh Zilla School in Mymensingh Sadar, Mymensingh

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

ময়মনসিংহ জিলা স্কুল একটি ঐতিহ্যবাহী ও গৌরবমণ্ডিত বিদ্যাপীঠের নাম । এর রয়েছে দেড়শত বছরেরও অধিক সময়ের স্মরণীয় ও সুদীর্ঘ এক ইতিহাস ।
১৭৮৭ খ্রীস্টাব্দে ‘নাসিরাবাদ’ নামে ময়মনসিংহ জেলার গোড়াপত্তন ঘটে ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী বেগুনবাড়িতে। ১৭৯১ খ্রীস্টাব্দে ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসে বেগুনবাড়ি লুপ্ত হওয়ায় হেডকোয়ার্টার স্থানান্তরিত হয় সেহড়া গ্রামে। ১৮১১ খ্রীস্টাব্দে এটি শহরের মর্যাদা লাভের পর এখানে উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। ১৮১৩ খ্রীস্টাব্দের শিক্ষা সনদ, ১৮২৩ খ্রীস্টাব্দের সাধারণ শিক্ষা কমিশন, ১৮৩৫ খ্রীস্টাব্দের অ্যাডাম কমিশন রিপোর্ট এবং ১৮৪৩ খ্রীস্টাব্দের লর্ড মেকলের ‘নিম্নগামী পরিস্রবণ নীতি’-র সুপারিশ ধরেই ১৮৪৬ খ্রীস্টাব্দে তদানীন্তন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কর্তৃক নিযুক্ত কালেক্টর মিঃ এফ.বি. ক্যাম্প এর ভবন ও কাচারী সংলগ্ন স্থানে পুকুরের উত্তরে একটি লাল একতলা দালানে ‘হার্ডিঞ্জ স্কুল’ নামে একটি ‘মিডল ইংলিশ স্কুল’ স্থাপন করা হয়। এখানে শুধু উচ্চবিত্তদের সন্তানেরা পড়ার সুযোগ পেত।
পরবর্তীতে উডস ড্যাসপ্যাচের শিক্ষানীতির আলোকে শ্রেণীকক্ষ ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে ১৮৫৩ খ্রীষ্টাব্দের ৩ নভেম্বর হার্ডিঞ্জ স্কুলটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ইংরেজি বিদ্যালয় হিসেবে ‘জিলা স্কুল’ এ রূপান্তরিত করা হয়। এর প্রথম হেডমাস্টার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ভগবান চন্দ্র বসু ( বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু’র পিতা )।
১৮৫৭ সালে রাণী ভিক্টোরিয়ার মাধ্যমে সরাসরি ইংল্যান্ড থেকে ব্রিটিশ শাসন শুরুর পর ১৮৬৯ খ্রীষ্টাব্দে ময়মনসিংহ শহর ‘পৌরসভা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেলে স্কুলের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য এবং ১৮৮২ খ্রীষ্টাব্দে হান্টার কমিশনের সুপারিশ অনুসারে শ্রেণীকক্ষ আরো উন্নত করার লক্ষে ১৮৮৫ খ্রীষ্টাব্দে পাকা ভিটওয়ালা বর্তমান ‘ময়মনসিংহ ল্যাবরেটরি স্কুল’ (সরকারি ল্যাবরেটরি স্কুল) ভবনে এটিকে স্থানান্তর করা হয় ।  ১৮৮৭ খ্রীষ্টাব্দে জেলার প্রথম বাঙালি কালেক্টর রমেশ চন্দ্র দত্তের সময়ে জেলা বোর্ড গঠনের ফলে এবং ১৯০১ খ্রীষ্টাব্দে লর্ড কার্জনের সময়ে “সিমলা কনফারেন্স” এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নের উপর গুরুত্ব আরোপের ফলে ১৯১২ খ্রীষ্টাব্দে বর্তমান স্থানে জমি অধিগ্রহণ করে স্কুল ও হোস্টেল ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করা হয় । ১৯১৩ খ্রীষ্টাব্দে ৩০০ আসন বিশিষ্ট জিলা স্কুল এই নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হয় । জিলা স্কুলের মূল ভবন এই লাল দালানটি প্রথমে এমনটি ছিল না । বারান্দায় ইটের ভিটার উপর টিনের চালা ছিল । পরবর্তী ১৯১৭ খ্রীষ্টাব্দে স্যাডলার কমিশন ও ১৯৪৪ খ্রীষ্টাব্দে সার্জেন্ট পরিকল্পনা অনুসারে এর মানোন্নয়নে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হয় । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ব্রিটিশ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের কারণে স্কুলটিকে সাময়িকভাবে স্কুল গেটের উল্টো দিকে “দারুল হাছানা” ভবনে স্থানান্তর করা হয় ।
১৯৪৭ খ্রীষ্টাব্দে দেশ বিভাগের পর ১৯৫২ খ্রীষ্টাব্দের ‘আকরাম খাঁ শিক্ষা কমিশন’ এবং ১৯৫৭ খ্রীষ্টাব্দে আতাউর রহমান খান শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের আলোকে ময়মনসিংহের প্রথম ডেপুটি কমিশনার এস. এম. এ. কাজমীর সময়ে ১৯৬১ খ্রীষ্টাব্দে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলকে “মাল্টিলেটারাল পাইলট স্কুল” এর মর্যাদা দেওয়া হয় । ১৯৬২ খ্রীষ্টাব্দে মানবিক ও বিজ্ঞান শাখার পাশাপাশি কারিগরি শাখা খোলা হয় । পাইলট স্কীমের আওতায় এবছর প্রচুর আসবাবপত্র প্রস্তুত হয় । ১৯৬৪ খ্রীষ্টাব্দে স্কুলে বাণিজ্য শাখা খোলা হয় । ১৯৬৫ খ্রীষ্টাব্দে নতুন করে সংস্কার কাজ শুরু হয় । মিঃ ড্রিল নামের একজন আমেরিকান বিজ্ঞান শিক্ষকের  à¦¤à¦¤à§à¦¬à¦¾à¦¬à¦§à¦¾à¦¨à§‡ ইট বিছানো মেঝে, টিনের চালওয়ালা বারান্দা, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের ভেতর চারটি করে মোটা পিলার, স্কুলের উত্তর দিকে টিনের ঘের দেওয়া সার্ভিস ল্যাট্রিন অপসারণ সহ সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয় ।
 
১৯৫৬-১৯৫৭ খ্রীষ্টাব্দের দিকে জিলা স্কুল হোস্টেলের টিনশেড অংশে টি. টি. কলেজ ময়মনসিংহ এর শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয় । ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত জিলা স্কুল হোস্টেলে ই.পি.আর. ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করায় হোস্টেলটি সাময়িকভাবে গুলকিবাড়ী রায়মণি লজে স্থানান্তর করা হয় এবং হোস্টেলটি “আঞ্জুমান মুসলিম হোস্টেল” নামে পরিচিতি লাভ করে । ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দের ৪ আগস্ট ই.পি.আর. হোস্টেলটি স্কুলের নিকট হস্তান্তর করে ।

১৯৭৮ খ্রীঃ পর্যন্ত জিলা স্কুলের প্রতি কক্ষে বৈদ্যুতিক পাখা ছিল না। মাদুর দিয়ে তৈরি জোড়া টানা পাখার ব্যবস্থা ছিল । ১৯৯১ খ্রীঃ থেকে স্কুলে দিবা ও প্রভাতী নামে ডাবল শিফট চালু হয় । ১৯৯৫ খ্রীঃ থেকে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত এস. এস. সি কার্যক্রম চালু রয়েছে । ১৯৯৮ খ্রীঃ থেকে স্কুলে নতুন তিনতলা ভবন তৈরি শুরু হয় এবং ২০০৮ ও ২০১৪  à¦–্রীঃ স্কুল মাঠও রাস্তা উচুকরণসহ স্কুলের ব্যাপক সংস্কার হয় । বর্তমানে স্কুলের ছাত্র সংখ্যা ১৮৭০ ।

Hours of Operation

Saturday

10:00 AM
to
4:00 PM

Sunday

10:00 AM
to
4:00 PM

Monday

10:00 AM
to
4:00 PM

Tuesday

10:00 AM
to
4:00 PM

Wednesday

10:00 AM
to
4:00 PM

Thursday

10:00 AM
to
4:00 PM

Friday

12:00 AM
to
12:00 AM

Reviews

5.0

Total 1 Ratings

Write your review


this is a reputated school in Mymensingh Sadar area

Review on May 17, 2019

Location Map